শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন

সমাজসেবার জন্য রাজনীতি জরুরি নয়

সমাজসেবার জন্য রাজনীতি জরুরি নয়

যে দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে সমাজের উপকার করতে হলে রাজনীতির চাদর গায়ে জড়াতেই হবে, নিজেকে সমর্পিত করতে হবে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের বেদিমূলে, সে রকম এক দেশে জন্ম নিয়ে ড. মো. সবুর খান ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। তিনি তাঁর পরিশ্রম, মেধা, যোগ্যতা আর নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে প্রমাণ করে চলেছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য শুধু ঐকান্তিক ইচ্ছাই যথেষ্ট, রাজনীতির ছাতার তলে মস্তক লুকানো জরুরি নয়। জাতির মানসচেতনা যখন হেঁটে চলেছে উল্টোরথে, বিদ্বান-বুদ্বিজীবীরা যখন ঝুলে পড়েছেন ক্ষমতার রশি ধরে, উচ্চবিত্তরা ব্যস্ত নিজের পাতে ঝোল টানায়, তারুণ্য যখন ভেসে যাচ্ছে গড্ডল প্রবাহে, তখন একজন সবুর খান যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন যে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছা যায়- করা যায় সমাজের সংস্কার, জাতির উপকার এবং সর্বোপরি জনগণের কল্যাণ।

তাঁর এই কল্যাণকামী মানসিকতার জন্ম সেই সুদূর শৈশবেই, যখন তিনি স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী। স্কুলে সক্রিয় ছিলেন নানা ধরনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে। বিশেষভাবে যুক্ত ছিলেন স্কাউট আন্দোলনের সাথে। সক্রিয় সদস্য ছিলেন খেলাঘর আসরের। সেই কিশোর বয়সেই সুযোগ পেয়েছিলেন খেলাঘরের সদস্য হিসেবে রাশিয়া যাওয়ার। কলেজে পড়ার সময়ও যুক্ত ছিলেন বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাবসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ার সময়ও ব্যত্যয় ঘটেনি তাঁর এসব স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডের। ক্যাম্পাসে ও ডিপার্টমেন্টে সবসময়ই সরব ছিলেন রোটার‌্যাক্ট ক্লাবসহ নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি নিয়ে। কিন্তু কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি। শুধু চোখ-কান খোলা রেখে নিরবে অবলোকন করে গেছেন রাজনীতির অলিগলি আর দূর থেকেই ভরেছেন অভিজ্ঞতার ঝুলি।

তবে দেখে শেখার চেয়ে ঠেকে শেখার মূল্য নাকি অনেক বেশি। ড. মো. সবুর খানের জীবনেও আসে সেরকম এক ঠেকে শেখার অভিজ্ঞতা। সেটা ২০০০ সালের কথা। তিনি পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। প্রতিষ্ঠা করেছেন ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, ড্যাফোডিল ওয়েব এন্ড ই-কমার্স, ই-ট্যাভেলস, মেট্রোনেট ব্রডব্যান্ড্সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়িক সাফল্যের ফলশ্রুতিতেই হঠাৎ সুযোগ আসে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে জাতীয় নির্বাচন করার। মনের গভীরে যে রাজনৈতিক অনীহা তিনি লালন করে চলেছিলেন র্দীঘদিন তার রীতি বিরুদ্ধপথে এগুনোর মাধ্যমেই তিনি তার দেশ ও জাতির উন্নয়নে তার কাংখিত স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়নে ও সমাজে অবদান রাখার জন্য রাজনীতিতে প্রবেশের এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভেবেছিলেন, সমাজে অবদান রাখার এটিও একটি ভালো পথ হতে পারে। রাজনীতির মাধ্যমে অনেক বেশি গণমানুষের কাছাকাছি যাওয়া যাবে, করা যাবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যবদল। তাই নেমে পড়লেন রাজনীতির মাঠে। কিন্তু অল্পদিনেই মোহভঙ্গ হলো তাঁর। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বেই তিনি ঘুরে দাড়ান। এতদিন দূর থেকে যে রাজনীতির অলিগলি দেখেছেন, এবার কাছ থেকে সেই গলিপথ দেখে একেবারে শিউরে উঠলেন। এত অন্ধকার! এত পঙ্কিলতা! এত শঠতায় ভরা! অনুভব করলেন রাজনীতি শুধু পেশাদার এবং পোড় খাওয়া, মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিবিদদেরই মানায়, ব্যবসায়ীদের নয়। ব্যবসায়ী হিসেবে রাজনীতিেিত এসে তিনি অত্যন্ত অসহায় বোধ করেন। তিনি অনুভব করেন যে, অরাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি হচ্ছে শুধু অর্থের হলিখেলা। কালো টাকার ছড়াছড়ি। এখানে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও জনপ্রিয়তা মূল্যায়নের মূলমাপকাঠি হচ্ছে নগদ অর্থ। এমন কি নগদ অর্থ না দিলে নেতা কর্মীদের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার টুকুও পাওয়া যায় না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্ত পানি করে, সৎ পথে তিনি যে অর্থ উপার্জন করেছেন সেই কষ্টার্জিত অর্থ এভাবে নষ্ট করতে তাঁর মন সায় দিলো না। উপলদ্ধি করতে পারলেন রাজনীতির মাঠে তিনি অত্যন্ত বেমানান। তাই সাথে সাথে তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে রাজনীতি থেকে সরে আসেন। তিনি রণে ভঙ্গ দিলেন এবং এই অল্পদিনে ঠেকে শিখে যে অভিজ্ঞা হলো, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিজ্ঞা করলেন, আর কখনোই রাজনীতির সঙ্গে জড়াবেন না। শুধু তাই নয়, আরো প্রতিজ্ঞা করলেন, রাজনীতির ঝালর গায়ে না জড়িয়েও যে ব্যবসার মাধ্যমেও সমাজবদল করা যায়, মানুষের উপকার করা যায় সেটা তিনি প্রমাণ করে ছাড়বেন।

এজন্য ২০০১ সালের পর থেকে কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সাথে তার সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই , প্রাথমিক সদস্যপদ বা অন্তভ’ক্তিও নেই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে , নেই কোন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদও। তিনি মনে করেন যে , রাজনীতির মাঠে তিনি পুােপুরি আনফিট। রাজনীতিতে শুধু তাদেরকেই মানায় যারা মাােঠর রাজনীতি বুঝেন, তৃনমূল পর্যায়ে মানুষ এবং সংগঠন সম্পকের্ যাদের পরিস্কার ধারনা রয়েছে। তিনি মনে করেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাদের প্রচুর পরিমানে কালো টাকা আছে, শুধু তাদের পক্ষেই রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা সম্ভব। কারণ প্রতিটা মুহূর্তে অর্থই বিচেনা হয় একজন ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদের মানদন্ড হিসেবে। এখানে বিবেক, যোগ্যতা, দক্ষতা, আবদান সামাজিক মর্যাদা কোন কিছুই রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। তবে এটা সত্য যে, স্বল্পদিনের হলেও ২০০১ সালের রাজনৈতিক মাঠের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতে তাকে তাঁর কাংখিত স্বপ্ন পূরণে নির্ধারিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করেন। আবার ২০০১ সালের রাজনীতির মাঠের অভিজ্ঞতা না থাকলে হয়তো এ সময়ে এস তার মাঝে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার এশাট প্রবনতা থেকে যেত। কিন্তু বর্তমানে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, তিনি আর কোনদিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবেন না বা তার রাজনীতির কোন অভিলাষ নেই। বরঞ্চ, তিনি তার প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতেই তিনি আনন্দ পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, একজন মানুষ কিন্তু বেঁচে থেকে আনন্দ পায় সমাজে অবদান রাখার মাধ্যমে। তিনি যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন বিশেষকরে বিভিন্ন ছাত্রদের বিনা পয়সায় পড়ানো ও সহযোগিতা করা, বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন, বিভিন্নজনকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন অবদান রাখার মত কাজগুলোই তার কাছে ভাল লাগে এবং এসব করে তিনি আনন্দও পান প্রচুর। ২০০১ সালে বাংলাদেশে কম্পিউটার সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেসব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিলেন তা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাসে রেকর্ড হয়ে থাকবে।

রাজনীতির বাইরে থেকেও যে দেশ ও জাতির কল্যানে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখা সম্ভব, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সবুর খান ইতিমধ্যে সেটা প্রমাণ করে ছেড়েছেন। এখন কে না জানে সবুর খানের নাম। দেশে বিদেশে তিনি এক সমাজ বদলের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে এক অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-সহ পঁয়ত্রিশের অধিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে। তারা অবদান রাখছে দেশ ও জাতির উন্নয়নে। একটি উদ্যোক্তাপ্রেমী প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ড. মো. সবুর খান। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ বিভাগ, যে বিভাগ থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। ড. মো. সবুর খান ঘোষণা করছেন, তিনি আগামী পাঁচ বছরে পাঁচশ উদ্যোক্তা তৈরি করবেন। যখন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন দুই হাজার উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নামে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ড. মো. সবুর খান তাঁর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শত শত দরিদ্র শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল সায়েন্স (ডিআইএসএস)। তাঁর উদ্ভাবিত ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ’, ‘আর্ট অব লিভিং’ এবং ‘চেঞ্জ টুগেদার’ ধারনা তাঁকে এ দেশে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

ড. মো. সবুর খান উইটসার পরিচালক এবং উইটসার বিশ্ব বাণিজ্য পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্ট ফোরাম (এইউপিএফ), ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্টস (আইএইউপি), ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিস (আইএইউ), এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (এএসওসিআইও), এশিয়া কোঅপারেশন ডায়ালগ (এসিডি), কফম্যান ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ নেটওয়ার্ক (জিইএন), চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল (সিওয়াইএফআই) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এনে দিয়েছে ঈর্ষনীয় খ্যাতি।

জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রাখায় স্বাপ্নিক এই সমাজসেবী ‘এমটিসি গ্লোবাল আউটস্ট্যান্ডিং কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড-আইসিটি’, ‘গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সিলেন্স ইন কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ’, ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’, ‘এশিয়াস মোস্ট ইন্সপায়ারিং নেশন বিল্ডার অ্যাওয়ার্ড’, ‘সৌন্দর্য বর্ধনে প্রধানমন্ত্রী পদক’, ‘ইউটসা অ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট আইসিটি এন্ট্রাপ্রেনার’, ‘বেসিসের লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’, ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার’, ‘এইচএসবিসি স্বর্ণ পদক’, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের র‌্যাপোর্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’সহ অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি ‘এশিয়ার শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী নেতা’র একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে সম্মানজনক ‘সিআইপি’ পুরস্কার।

ড. মো. সবুর খানের এসব অর্জনই বলে দেয়, দেশ-জাতি ও মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া অত্যাবশ্যক নয়। রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও সফল নেতা হওয়া যায়, সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়। তাঁর এই পথচলা নতুন প্রজন্মকে নতুন পথের দিশা দেবে নিঃসন্দেহে।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com