রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো রাবিতে

সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো রাবিতে

রাবি প্রতিনিধি : সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকবিরোধী সমাবেশ ৪ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান পিপিএম। সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, রাজশাহী বিভাগের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক এম খুরশিদ হোসেন বিপিএম (বার), প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাবি শাখার সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ রুনু, রাবি শাখা স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি সুমাইয়া রহমান কান্তি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং গঠনে পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাছির আহমেদকে স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপাচার্য পুলিশের মহা পরিদর্শককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। এছাড়া স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও পুলিশ কমিশনার ও উপ-মহা পরিদর্শককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সেখানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারী, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর জান্নাতুল ফেরদৌস, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ক্রমবর্ধমান কর্মকান্ড এবং সাম্প্রতিককালে কয়েকটি উপর্যুপরি হামলার প্রেক্ষাপটে এমন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সাম্প্রতিক কোনো বিষয়। কিন্তু তা সঠিক নয়। এক্ষেত্রে আমরা এক দশক বা তারও আগের সন্ত্রাসী ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারি। জঙ্গিবাদের প্রতি বর্তমান সরকারের শুন্যমাত্রার সহনশীল মনোভাবের কারণে আজ তা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তছনছ হয়ে গেছে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের কাঠামো। এই সাফল্যের পেছনে সরকারের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সচেতন মহলের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জঙ্গি সন্ত্রাস রোধে জনসাধারণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জঙ্গিবাদ আর কোনোদিন বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিতে পারবে না বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক কর্মকান্ড লক্ষ্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে তাঁরা আহ্বান জানান।

বক্তারা মাদক প্রতিরোধ প্রসঙ্গে বলেন, মাদকাসক্তি বা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার দীর্ঘদিন থেকে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। তবে বাংলাদেশে এর প্রসার ঘটেছে গত প্রায় তিন দশকে। অবৈধ মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগের সাথে জড়িত সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশে মাদক-সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ পর্যন্ত মাদকদ্রব্যের নিরন্তর ঝুঁকিতে রয়েছে। বেআইনি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী এবং এর পৃষ্ঠপোষকরা শুধু মাদক সংক্রান্ত অপরাধই করে না, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত। কাজেই মাদক একটি সামাজিক সমস্যা।

কোন সামাজিক সমস্যা কোন একক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সমাজের সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মাদক ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারী, এর ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বোপরি তাদের অভিভাকদেরও সমাধান পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রতি জনগণের সচেতনা বৃদ্ধির জন্য প্রচার প্রচারণা যেমন চালাতে হবে, তেমনি অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পুলিশি অভিযান ও জনপ্রতিরোধের মাধ্যমে অলাভজনক করে তুলতে হবে। পেটের দায়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা তথা অন্য কোন সম্মানজনক বৈধ পেশায় আত্মনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক তাঁর বক্তৃতার একপর্যায়ে রাজশাহীতে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে ইতোমধ্যে গঠিত এই ব্যবস্থার সাফল্য অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। কমিউনিটি পুলিশিংকে আরো সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সমাজ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক নির্মূল সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই পুলিশিংয়ের সাফল্যের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তাঁর শিক্ষা-সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমকে ধ্বংস করাই যথেষ্ট। বাংলাদেশে এক কুচক্রী শ্রেণি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং মাদকের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে ধ্বংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সকল সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে কেউ কখনো ধ্বংস করতে পারবে না। অনুষ্ঠাটি সঞ্চালনা করেন এসএম সাদাকাত মাহমুদ ও মেহজাবিন কথা।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com