মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২১ অপরাহ্ন

শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতা রাবিতে অনুষ্ঠিত

শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতা রাবিতে অনুষ্ঠিত

রাবি প্রতিনিধি : ২৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান তাঁর ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন। এদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে এই বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকর হিসাব অনুযায়ী এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ৪৭% স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার। ভারতে এই সংখ্যা ৩৩% আর শ্রীলংকায় ৭.৮%। বেকারত্বের সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। প্রতিবছর কুড়ি লক্ষ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে ছয় লক্ষ বিদেশি বাংলাদেশে কাজ করে বছরে ছয় বিলিয়ন ডলার বা পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা তাদের দেশে প্রেরণ করছে।’

‘বাস্তবতা পর্যালোচনা করলে এটি বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বাংলাদেশের বিশাল তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত অর্থে জনসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে আমরা যে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের অথবা ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি তা অধরা রয়ে যাবে। এটি করার জন্য এই বিশাল তরুণ জনশক্তিকে আমাদের প্রকৃত সম্পদ হি সেবে দেখতে হবে এবং তাদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষা আর দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। আর এই তরুণদের মনে রাখতে হবে আজকের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কাল কোন কাজে নাও আসতে পারে। তা যাতে না হয় শিক্ষা আর প্রশিক্ষণকে স্বীয় উদ্যোগে নিয়মিত শাণিত করতে হবে।’

প্রফেসর মান্নান আরো বলেন, ‘গত চার দর্শকে বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থায় চোখ ধাঁধানো পরিবর্তন হয়েছে। তবে একইসঙ্গে বদলে গেছে বিশ্ব। বিশ্ব এখন বিশ্বায়নের যুগে প্রবেশ করেছে। সমালোচকরা বিশ্বায়নের যতই সমালোচনা করুক কারও পক্ষে এটির বিপক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বসভ্যতায় বিশ্বায়ন ও শিল্প বিপ্লব ঘটেছে পরস্পরের হাত ধরে। বিশ্বায়ন ঘটেছে তিন ধাপে আর শিল্প বিপ্লব বর্তমানে চতুর্থ ধাপ পার করছে। বিশ্বায়নের প্রথম ধাপ শুরু হয় ১৪৯২ সালে যখন ক্রেস্ফোর কলম্বাস অনেকটা দৈবক্রমে তার জাহাজ নিয়ে আমেরিকার তীরে পৌঁছে যায়।’

‘বিশ্বের অনেক সম্পদশালী দেশ ঔপনিবেশিক শক্তির লাগামহীন শোষণের কারণে চরম দারিদ্যের স্বাদ পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশ ও চীন তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশের সম্পদ লুণ্ঠন ছিল লাগামহীন। এই সব লুণ্ঠিত সম্পদ দিয়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক ইউরোপ।’

প্রফেসর মান্নান আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক খলিল জিবরানের একটি লেখা থেকে “The true wealth of a nation lies not in it’s gold or silver but in it’s learning, wisdom and in the uprightness of its sons” উদ্ধৃত করে আরো বলেন আমাদের সন্তানরাই হচ্ছে আমাদের প্রকৃত সম্পদ। তাদেরকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করে দেশের কাজে লাগনোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে শহীদ ড. জোহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আশরাফী শহীদ ড. জোহার জীবনালেখ্য পাঠ এবং বিভাগের শিক্ষক ড. বিলকিস জাহান লুম্বিনী ও ড. মো. মাহবুবর রহমান বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রসঙ্গত, ঊনসত্তুরের গণঅভ্যূত্থানকালে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে নিহত হন। তিনিই এদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। তাঁর স্মরণে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

স্মারক বক্তৃতার আগে প্রফেসর মান্নান শহীদ ড. জোহার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com