মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত

অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত

Prof. Rasheda Khaleque
Prof. Rasheda Khaleque (অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক)

অধ্যাপিকা রাশেদা খালেক সিরাজগঞ্জ জেলায় ডিগ্রিরচর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- আলহাজ রমজান আলি মিয়া। মাতা- মোসাঃ হালিমা খাতুন। রাশেদা খালেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নার্সারী ও জুনিয়র স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষা। বর্তমানে স্কুলটি শেখ রাসেল মডেল স্কুল নামে পরিচিত। রাশেদা খালেক রাজশাহী আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি অধ্যাপক। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবেও কাজ করেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন কথক, শিশুমেলা আসর পরিচালক। এছাড়া জাতীয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান ও সাহিত্য আসরও পরিচালনা  করে আসছেন। রাশেদা খালেক তিন কন্যা এক পুত্র সন্তানের জননী। ছেলে-মেয়েরা সকলেই দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। স্বামী প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক, সাবেক উপাচার্য-রা.বি; বর্তমান উপাচার্য, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী।

রাশেদা খালেক রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠিত নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্র্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। উচ্চশিক্ষার্থে তিনি উত্তরাঞ্চলের প্রথম ও একমাত্র নারী উদ্যোক্তা। দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রচেষ্টার ফসল এই নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে গিয়ে রাশেদা খালেককে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

রাশেদা খালেক একজন সাহিত্যসেবী ও সমাজসেবী। ষাটের দশক থেকে তিনি লেখালেখি করে আসছেন। ছোটগল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী ও কবিতা লিখে তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন।তবে গদ্য লেখাতেই তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য। তিনি একজন মানবতাবাদী লেখক। দেশপ্রেম, স্বাজাত্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা তাঁর জীবনদর্শন। জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে।

তাঁর প্রকাশিত একক গ্রন্থ ৫টি। অন্তরে অনির্বাণ (গল্পগ্রন্থ-২০০০), আমার দেখা জেনেভা ও প্যারিস (ভ্রমণ কাহিনী-২০০৮), একাত্তরের বীরাঙ্গনা (গল্পগ্রন্থ-২০১৩), কান পেতে রই (কাব্য গ্রন্থ-২০১৫), একান্ত জীবনে আপন ভুবনে রবীন্দ্রনাথ (রবীন্দ্র জীবনকথা-বইমেলা ২০১৭)।

সম্পাদনা গ্রন্থ ৭টি- আপন ভুবনে বৈরী বাতাস (গল্প সংকলন-২০০৮), একাত্তরের আঙিনায় (গল্প সংকলন-২০১০), অন্তর সুবাস (কাব্যগ্রন্থ-২০১২), রাজশাহীর সাহিত্যাঙ্গনে আলোকিত নারী (জীবনী গ্রন্থ-২০১৪), সম্মেলন স্মরণিকা (২০১৫), আটপৌরে গপ্পো (গল্প সংকলন-২০১৫), চোখের আলোয় দেখেছিলেম (গল্প সংকলন-২০১৬)।

প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক লেখার সংখ্যা-৭৫টি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বেগম রোকেয়া, বেগম সুফিয়া কামাল, প্রফেসর মযহারুল ইসলাম, প্রীতিলতা, জাহানারা ইমাম, মহান একুশে, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বিজয়, আন্তর্জাতিক নারী দিবস, সিডও সনদ, সমাজ গঠনে রাজশাহীর নারীদের ভূমিকা ইত্যাদি বহু বিষয়ে তিনি প্রবন্ধ রচনা করে সুখ্যাতি লাভ করেছেন।

সাহিত্য কর্মের অবদানের জন্য রাশেদা খালেক রাজশাহী লেখক পরিষদ, শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটি-ঢাকা, বাংালাদেশ লেখিকা সংঘ ঢাকা ও রাজশাহী, নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র-ঢাকা, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ- সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ, প্রদীপ্ত সাহিত্যাসর-কেশরহাট, সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র- এনবিআইইউ সহ আরো সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান হতে পুরস্কার, পদক, সম্মাননাও গুণীজন সংবর্ধনা লাভ করেছেন। সংগঠনপ্রিয় রাশেদা খালেক বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, রাজশাহীর-সভাপতি, ধানসিঁড়ি সাহিত্য পরিষদের-সভাপতি, মহিলা কøাব রা.বি. এর প্রাক্তন সভানেত্রী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাবি শাখার সহ-সভানেত্রী, সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র এনবিআইইউ এর সভাপতি, এছাড়াও উপদেষ্টা ও সদস্য হিসেবে অনেক সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

ভ্রমনপিপাসু রাশেদা খালেক ভারত, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছেন।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com