রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

রাবিতে বিশ্ব দর্শন দিবস পালন

রাবিতে বিশ্ব দর্শন দিবস পালন

রাবি প্রতিনিধি : নানা আয়োজন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২২ নভেম্বর ২০১৭ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব দর্শন দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে দর্শন বিভাগের আয়োজনে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে মমতাজউদ্দিন কলাভবনের সামনে থেকে দর্শন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এদিন সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে ‘সভ্যতার সংকট উত্তরণে পারস্পরিক সহমর্মিতা’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক বিশিষ্ট সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হক। এতে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও প্রফেসর এম আব্দুল হামিদ। বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. ড. মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন দর্শন সমিতির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর নিলুফার আহমেদ। সেখানে অন্যান্যের মধ্যে খ্যাতনামা অর্থনীতি চিন্তক প্রফেসর সনৎকুমার সাহা, প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমানসহ দর্শন বিভাগের শিক্ষক,শিক্ষার্থী, গবেষক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় মূল আলোচকসহ অতিথিবৃন্দ বলেন, রেনেসাঁসের মর্মে ছিল সত্য ও ন্যায়ের সন্ধানে অদম্য স্পৃহা এবং মিথ্যা, অন্যায় ও দুঃখ-দর্দশা থেকে মুক্তির প্রবল আকাক্সক্ষা। রেনেসাঁসের মধ্যেই মানুষ শাস্ত্রনিরপেক্ষ যুক্তি অবলম্বন করে এবং পরকালের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইহকালের দিকে ভালো করে তাকায়, আর ঈশ্বরকেন্দ্রিক, গির্জাকেন্দ্রিক, বাইবেলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করে। ফলে মানুষ নতুন চরিত্র লাভ করে। ক্রমে মানবজাতির মধ্য উপলব্ধি জাগে যে, মানুষের শক্তি ও সম্ভাবনা ক্রমবর্ধমান ও অন্তহীন। তাতে মানুষের চিন্তা ও কর্মের প্রকৃতি বদলে যায়। মানুষ আত্মশক্তিতে আস্থাশীল ও আত্মনির্ভর হতে থাকে এবং ঈশ্বর ও ধর্মগ্রন্থের উপর নির্ভরশীলতা ত্যাগ করতে থাকে। তাঁরা আরো বলেন, সভ্যতার যেমন বৈষয়িক দিক আছে, তেমনি আছে মানসিক ও চিন্তাগত দিকও। উৎপাদন ও বন্টন, আইন-কানুন ও শাসনব্যবস্থা এবং উন্নত ভবিষ্যতের আশা ও আদর্শ হয়ে থাকে সভ্যতার অবলম্বন। এগুলোতে ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায় আছে। ন্যায়, সর্বজনীন কল্যাণ ও সুন্দরের প্রাধান্য থাকে সভ্যতায়। সভ্যতা হল সমাজে মন্দের সঙ্গে ভালোর সংগ্রাম, সেই সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সুসম্পর্ক, সৃষ্টিশীলতা ও সম্প্রীতির মনোভাব। সভ্যতা ও বর্বরতা বিপরীতার্থক। সভ্যতার মর্মে ক্রিয়াশীল থাকে নৈতিক চেতনা- ভালো-মন্দ ন্যায়-অন্যায় ও কর্তব্য-অকর্তব্য সম্পর্কে ধারণা, আর বাস্তব জীবনে তার অনুশীলন। প্রতিটি সভ্যতার আছে সূচনা, বিকাশ ও পরিণতি। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিভাগের শিক্ষক তাসনিম নাজিরা রিদা।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com