রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

আলোর পথযাত্রী বঙ্গরত্ন শেখ হাসিনা

আলোর পথযাত্রী বঙ্গরত্ন শেখ হাসিনা

প্রফেসর ড. আবদুল খালেক
Professor Dr. Abdul Khaleque (প্রফেসর ড. আবদুল খালেক)

বলতে দ্বিধা নেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত সফল রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার লেখার শিরোনামে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নামের সাথে ‘বঙ্গরত্ন’ বিশেষণটি দেখে অনেকের মনে নানা রকম প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। কারণ এর আগে কখনও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নামের সাথে ‘বঙ্গরত্ন’ বিশেষণটি কেউ ব্যবহার করেন নি। সম্ভবত কোন এক সময়ে ছাত্রলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ‘দেশরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয় এবং বিশেষণটি অনেকেই এখন ব্যবহার করে থাকেন। এ ধরনের সম্মাননা সরকার প্রদত্ত নয়, আপামর জনসাধারণের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা থেকে এ সম্মাননাগুলো আসে যেমন- শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইত্যাদি। হৃদয়ের অন্তহীন ভালোবাসা থেকেই মানুষের মুখে সম্মাননাগুলো উচ্চারিত হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে একদিন তা সমাজে স্থায়ী রূপ লাভ করে।

একই প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নামের সাথে সম্প্রতি ‘দেশরত্ন’ বিশেষণটি সংযোজিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদের এক অনুষ্ঠানে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষ্যে রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ গত ৩রা অক্টোবর তারিখে ‘আলোর পথযাত্রী’ শিরোনামে এক অনলাইন আলোচনা সভার আয়োজন করে। উক্ত আলোচনা সভার প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সন্মানিত সাধারণ সম্পাদক জনাব ডা. এস.এ. মালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত হয়েছিলেন প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, প্রফেসর মুহম্মদ নূরুল্লাহ্, প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জনাব মতিউর রহমান লাল্টু। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আবুল কাশেম। অনলাইন আলোচনা সভাটি পরিচালনায় কারিগরি সহায়তায় ছিলেন সংগঠনের সদস্য রাশেদ-আল-মাহফুজ এবং জামসেদ হোসেন টিপু।

রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি হিসেবে পদাধিকারবলে উক্ত অনলাইন আলোচনা সভার সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করতে হয় আমাকে। দেশ পরিচালনা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অসাধারণ অর্জনের কথা বলতে গিয়ে আমি তাঁকে রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করার আহ্বান জানাই। বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সন্মানিত সাধারণ সম্পাদক জনাব ডা. এস.এ. মালেক আমার প্রস্তাবটির পক্ষে আন্তরিক সমর্থন জ্ঞাপন করেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করবার অধিকার রাখে, কারণ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে শেখ হাসিনার রয়েছে আত্মিক সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধু পরিষদের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। প্রসঙ্গক্রমে বঙ্গবন্ধু পরিষদের জন্মকথা পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তারিখে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে যখন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, তখন বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা জার্মানীতে অবস্থান করছিলেন, যার ফলে তাঁরা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। দেশে জারি হয় সামরিক শাসন। প্রাথমিকভাবে বিদেশে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর বাসায় শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা আশ্রয় গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যখন দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে, সে পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার জন্য দেশে ফিরে আসা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আন্তরিক সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। দিল্লীতে একটি ফ্লাট বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং শেখ হাসিনার স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়াকে তাঁদের বসবাসের জন্য।

১৯৭৬ সালের দিকে ভাগ্যের অন্বেষণে শেখ রেহানা চলে যান লন্ডনে, আশ্রয় গ্রহণ করেন তাঁর খোকা চাচার বাসায়। অর্থের অভাবে তিনি ‘এ’ লেভেলে ভর্তি হতে পারেন নি। ১৯৭৬ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে ড. শফিক সিদ্দিকীর সাথে শেখ রেহানা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়েতে বড় বোন শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকতে পারেন নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তারিখে বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার পর শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলামকে জেলখানায় আটক করা হয়। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে এই দুই উপাচার্য ১৯৭৮ সালে জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন। জেল থেকে মুক্ত হয়ে এসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববোধ থেকে প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরী দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে গঠন করেন ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’। আওয়ামী লীগের তখন চরম দুঃসময়। দেশের সামরিক সরকার ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হননের অপচেষ্টায় তৎপর। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সে এক গভীর ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দেশের প্রগতিশীল শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক এবং গুণী ব্যক্তিদেরকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের মঞ্চে নিয়ে আসবার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ঢাকায় ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ গঠনের সাথে সাথে দেশ-বিদেশের মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবী মহল বঙ্গবন্ধু পরিষদের পতাকাতলে সমবেত হতে থাকেন।

দেশে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের পর ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে এক বছরের একটি ফেলোশিপ নিয়ে লন্ডনে চলে যান। লন্ডনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তখন দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বাকশালে। সে এক আত্মঘাতি কলহ। বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী লন্ডনে আসায় শেখ রেহানা, ড. শফিক সিদ্দিক, জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরী, ড. সেলিম প্রমুখ ভাবতে শুরু করেন লন্ডনে বঙ্গবন্ধু পরিষদের একটি শাখা গঠন করতে পারলে হয়তো আওয়ামী লীগ এবং বাকশালের দ্বন্দ্ব খানিকটা কমানো সম্ভব হবে। সেই ভাবনা থেকে তাঁরা সবাই উদ্যোগী হয়ে ১৯৭৯ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর লন্ডনের ‘কনওয়ে’ হলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। গবেষণা কাজে ব্যস্ততার কারণে প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হতে না পারলেও ড. মতিন চৌধুরীর সহধর্মিনী মিসেস রাজিয়া মতিন চৌধুরী সেখানে উপস্থিত হয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা। সভায় সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মনোনীত করা হয় ‘স্যার টমাস উইলিয়ামস’কে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের ব্যবস্থা করা। স্যার টমাস উইলিয়ামস ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কাজ করেছেন, যার ফলে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে তাঁর অনেক কিছু জানা ছিল।

দেশে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের পর ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে এক বছরের একটি ফেলোশিপ নিয়ে লন্ডনে চলে যান। লন্ডনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তখন দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বাকশালে। সে এক আত্মঘাতি কলহ। বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী লন্ডনে আসায় শেখ রেহানা, ড. শফিক সিদ্দিক, জনাব আবদুল গাফফার চৌধুরী, ড. সেলিম প্রমুখ ভাবতে শুরু করেন লন্ডনে বঙ্গবন্ধু পরিষদের একটি শাখা গঠন করতে পারলে হয়তো আওয়ামী লীগ এবং বাকশালের দ্বন্দ্ব খানিকটা কমানো সম্ভব হবে। সেই ভাবনা থেকে তাঁরা সবাই উদ্যোগী হয়ে ১৯৭৯ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর লন্ডনের ‘কনওয়ে’ হলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। গবেষণা কাজে ব্যস্ততার কারণে প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হতে না পারলেও ড. মতিন চৌধুরীর সহধর্মিনী মিসেস রাজিয়া মতিন চৌধুরী সেখানে উপস্থিত হয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা। সভায় সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মনোনীত করা হয় ‘স্যার টমাস উইলিয়ামস’কে। উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের ব্যবস্থা করা। স্যার টমাস উইলিয়ামস ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কাজ করেছেন, যার ফলে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে তাঁর অনেক কিছু জানা ছিল।

১৯৮০ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে কিছু দিনের জন্য দিল্লী থেকে শেখ হাসিনা লন্ডনে আসেন। শেখ রেহানার তখন বাচ্চা হবার সময়। তবে লন্ডনে এসে শেখ হাসিনা কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচি হাতে নেন যেমন- আওয়ামী লীগ এবং বাকশালপন্থীদের বিরোধ মেটানো এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি। এসব কাজে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদকে সহায়ক শক্তি হিসেবে গণ্য করেন। শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেন স্যার টমাস উইলিয়ামস যখন সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবি তোলা সহজ হবে।

১৯৮০ সালের ১৫ই আগস্ট শোক দিবস পালন উপলক্ষ্যে ১৬ই ডিসেম্বর লন্ডনের ইয়র্ক হলে একটি শোক সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি স্যার টমাস উইলিয়ামস। সভাপতি হিসেবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কীভাবে শুরু করা যায়, সে সম্পর্কে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করবেন।

সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি স্যার টমাস উইলিয়ামস প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি অতিদ্রুত তদন্ত কমিশন গঠনের কাজে হাত দেন। প্রস্তাবিত তদন্ত কমিশনে স্থান দেয়া হয় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত বিখ্যাত আইরিশ আইনবিদ শন ম্যাকব্রাইড এবং অপর একজন প্রখ্যাত আইনজীবী জেফ্রি টমাস কি সি এম পি মহোদয়কে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করেছিলেন। আন্তর্জাতিক আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বিষয়ে মূলত তিনি সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি স্যার টমাস উইলিয়ামসয়ের ওপর গভীর আস্থা রেখেছিলেন। এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ এবং আন্তরিক। বঙ্গবন্ধু পরিষদের জন্মলগ্ন থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং এখনও তিনি পৃষ্ঠপোষক। কাজেই বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে তাঁকে সম্মাননা দেয়া যেতেই পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে আমি তাঁকে ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করবার প্রস্তাব উত্থাপন করেছি এবং কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ডা. এস.এ. মালেক প্রস্তাবটির প্রতি আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছেন।

আমার জানামতে ছাত্রলীগ প্রদত্ত ‘দেশরত্ন’ সম্মাননাটি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নামের সাথে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিএনপি তাদের দলীয় সভাপতি বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছে। ‘দেশনেত্রী’ এবং ‘দেশরত্ন’ বিশেষণ দু’টি অত্যন্ত কাছাকাছি। আমরা জানি এবং সমগ্র বিশ্ব জানে বাংলা দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার অর্জন তুলনাহীন। বলা যেতে পারে শেখ হাসিনার তুলনা একমাত্র শেখ হাসিনাই। তিনি একের পর এক নিজের গড়া উন্নয়ন রেকর্ড নিজেই অতিক্রম করে চলেছেন। যে বাংলাদেশকে একসময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল, সেই বাংলাদেশ এখন সমগ্রবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। যে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল তারা এখন পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ নিতে সাধাসাধি করছে। শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি এখন বিশ্বনেতা। শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলো ছড়াচ্ছেন না, সমগ্র বিশ্ব রাজনীতিতে তিনি আলো ছড়াচ্ছেন।

হাজার বছরের পরাধীন বাংলাদেশকে স্বাধীন করে শেখ মুজিব যেমন ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, পাশাপাশি একটি হতদরিদ্র বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নয়নশীল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত হতেই পারেন। ‘বঙ’ শব্দটি অতি প্রাচীন একটি ঐতিহ্যবাহী শব্দ। প্রাচীন ‘বঙ’ জনপদ থেকেই জন্ম হয়েছে বঙ্গদেশের। বঙ্গদেশ থেকে আজকের বাংলাদেশ। ‘বঙ্গ’ শব্দের বিস্তৃতি অনেক ব্যাপক, ঐতিহ্যের শিকড় অনেক গভীরে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য যে পর্যায়ে এসেছে, সমগ্র বিশ্ব রাজনীতিতে যে উচ্চতায় তিনি পৌঁছে গেছেন, সে বিবেচনায় ঐতিহ্যবাহী ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মাননাই তাঁর জন্য অধিকতর মানানসই ।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। জাতীয় সংকটকালে, আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ পালন করেছে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কাছেও রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নানা রকম দায়বদ্ধতা। সমগ্র বাঙালি জাতির কাছে, বিশ্বের বাঙলা ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে যে অর্থে শেখ মুজিব ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্মানে সমাদৃত, যে বিবেচনায় বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ‘বঙ্গমাতা’ সম্মানে ভূষিত , একই দৃষ্টিকোণ থেকে কালজয়ী আন্তর্জাতিকমানের নেত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করতেই পারে। কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ‘বঙ্গরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

*প্রফেসর ড. আবদুল খালেক, সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com