রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

ডিআইইউতে সুশাসনের জন্য যোগাযোগ ও গণমাধ্যম শীর্ষক সেমিনার

ডিআইইউতে সুশাসনের জন্য যোগাযোগ ও গণমাধ্যম শীর্ষক সেমিনার

ডিআইইউ প্রতিনিধি : ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের আয়োজনে ‘সুশাসনের জন্য যোগাযোগ ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক এক সেমিনার ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান। সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। এছাড়া চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ সেমিনারে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এ বছর স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় শাইখ সিরাজকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দিত করা হয়। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এমএম হামিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা হেলাল মেহতাব, সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রফেসর ড. সাখাওয়াত আলী খান, বিভাগীয় প্রধান সেলিম আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধ পাঠে অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে, এর বেশি কিছু নয়। গণমাধ্যম চাইলেই রাতকে দিন কিংবা দিনকে রাত বানাতে পারে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে সরাসরি সরকারের নিকট পৌঁছা সম্ভব নয়। তাই গণমাধ্যম সাধারণ মানুষের দাবি দাওয়া ও চাওয়া পাওয়া সরকারের নিকট তুলে ধরে। সরকার তখন সেসব বাস্তবায়ন করে। এভাবে গণমাধ্যম সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে থাকে।

অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান আরও বলেন, সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যম যেহেতু সেতুবন্ধের ভূমিকা পালন করে, তাই গণমাধ্যমকে নিজের দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে আরো সচেতন হতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে গণমাধ্যম গড়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্র সুশাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বোঝা যায় ছয়টি নির্ধারকের ভিত্তিতে। সেগুলো হচ্ছে বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারের কার্যকর ভূমিকা, সমাজে ধ্যান ধারনার প্রতিফলন ও দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণ। এসব বিষয়ের ওপর তীক্ষè নজরদারি রাখা গণমাধ্যমের কাজ বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান।

দেশবরেণ্য কৃষি সাংবাদিক ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, গণমাধ্যম তখনই সরকারকে সুশাসনের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারে যখন গণমাধ্যম নিজে সৎ থাকে। তাই সুশাসনের চর্চা শুরু করতে হবে ঘর থেকে। যদি নিজের ঘরে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তবে ক্রমান্বয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রেও তা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বাংলাদেশের গলমাধ্যম সম্পর্কে বলেন, আমাদের দেশে গণমাধ্যম দুর্বিষহ অবস্থায় আছে। বেশিরভাগ গণমাধ্যম অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তারা সাংবাদিকতার নৈতিকতা মানছে না। উদারহরণ দিয়ে বলেন, এ দেশে একবার একযোগে ৬৪ জেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। তারপর গণমাধ্যমগুলো সেই বিস্ফোরণের বিভৎসব ছবিগুলো প্রকাশের প্রতিযোগিতায় নামল। এই চর্চা এখনো চলছে বলে জানান শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। গণমাধ্যমকে যত বেশি উন্মক্ত করা যাবে, সুশাসন তত দ্রুত আসবে। এজন্য গণমাধ্যমকর্মী, মালিক, সরকারসহ সংশ্লিস্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শাইখ সিরাজ।

গণমাধ্যম কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে তার উদাহরণ দিতে গিয়ে শাইখ সিরাজ বলেন, ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত কৃষি বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠান করে আসছি। এরমাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের মুখোমুখি হতে পারছে। তার প্রতিফলন পড়ছে জাতীয় বাজেটে। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, কৃষিকে আগে মানুষ পেশা হিসেবে পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করতেন। এখন আর করেন না। অনেক তরুণ শিক্ষার্থী এখন গর্বের সঙ্গে বলেন, আমার বাবা একজন কৃষক। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির এই যে পরিবর্তন সেটা গনমাধ্যমের অবদান এবং সেটা শাইখ সিরাজেরই অবদান। তিনি বলেন, কৃষকের চেয়ে বড় কোনো উদ্যোক্তা নেই। তাদের বেশির ভাগের নিজস্ব জমি না থাকা সত্ত্বেও বর্গা নিয়ে ফসল ফলান। কিন্তু এই প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে সরকারের তেমন কোনা উদ্যোগ নেই। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের আরো জোরালো ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন ড. মো. সবুর খান। তিনি বলেন, অস্বীকার করার উপায় নেই যে এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুদ- হচ্ছে গণমাধ্যম। কিন্তু গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রেই নৈতিক আচরণ করে না। অনৈতিক সাংবাদিকতার কারণে দেশের অর্থনীতির গতি কমে যাচ্ছে। এখনই এসব অপসাংবাদিকতা রুখে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করে ড. মো. সবুর খান।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com