বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮, ১০:৩১ অপরাহ্ন

বিশ্বমানের শিক্ষার খোঁজে বাংলাদেশে চার দিন

বিশ্বমানের শিক্ষার খোঁজে বাংলাদেশে চার দিন

২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল-২০১৮
বিশ্বমানের শিক্ষার খোঁজে বাংলাদেশে চার দিন

তারা কেউ এসেছেন যুক্তরাজ্য থেকে, কেউ বা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আবার কেউ কেউ পার্শবর্তী ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা বা ভূটান থেকে, কেউবা সূদূর মরিশাস থেকে। মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন আর বৈশ্বিক শান্তির খোঁজে ২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল ২০১৮-তে যোগ দিতে তারা এসেছিলেন বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। তারা জানেন, টেকসই উন্নয়ন আর বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। সেই মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর টোটাল কোয়ালিটি অ্যান্ড এক্সেলেন্স ইন এডুকেশন (WCTQEE)। বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (BSTQM)। গত ৩-৬ মে বিএসটিকিউএম ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল’ নামের এই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সম্মেলন। প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলনর উদ্বোধন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাজের বাতিঘর হচ্ছে শিক্ষা। সুতরাং বাতিঘর যদি মানসম্মত না হয় তাহলে সমাজ সঠিকভাবে আলোকিত হয় না। আর সমাজ আলোকিত না হলে দেশ রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবী- কোনো কিছুই আলোকিত হবে না। তাই আমাদেরকে সর্বাগ্রে মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন দেশ থাকা আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. মো. সবুর খান বলেন, নিজের উন্নয়ন ঘটাও। বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক তৈরি করো। আর নিজের ওপর আস্থা রেখে পড়ালেখা করো। নিজের উন্নয়ন ঘটাতে পারলেই বিশ্বের উন্নয়ন ঘটবে। তোমাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ হবে আগামীর পৃথিবী।

চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনে প্রায় ৬০টি স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের কেস স্টাডি ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানবিষয়ক ১৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও ৪৩টি দল পোস্টার ও শ্লোগান, ৩৯টি দল কোলাজ, ২৯টি দল স্কিট, ৩৩টি দল বিতর্ক, ২৮টি দল কোয়ালিটি ক্ইুজ এবং ১৬টি দল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বিস্তারিত কর্মসূচীই বলে দেয় একটুকুও ফুরসৎ ছিলনা কারো জন্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সবাইকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে নানা আয়োজন, মেধা অন্বেষণ আর প্রতিযোগীতা নিয়ে।

সম্মেলনে বিশ্বের নয়টি দেশের প্রায় পাঁচ শ বিদেশি শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজের পাঁচ শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বলা বাহুল্য, হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় চারদিন মুখর ছিল ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। সেখানেই কথা হয় মনাসিংহে রাংকোথে কাপিলা, ঊষা নিয়েপানে, ঈষাণ মেহার্জান, গায়ত্রী আগরওয়াল, ইয়াশ যুব রাজেশ, নিশিকা স্বর্ণা, অদিত কুমার, নীল মেধানশ, দিনেশ হারি, জেপিএজে জয়াসিংহে আপিসখা সিংহে প্রমুখ বিদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

নয়নাভিরাম সুবজ বাংলাদেশ আর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস দেখে দারুণ উচ্ছস্বিত ছিল এই শিক্ষার্থীরা। ‘এত সবুজ গাছপালা ও শান্ত প্রকৃতি দেখে আমার মন ভরে গেছে’- বলছিল মরিশাসের শিক্ষার্থী নীল মেধানশ। নীলের সঙ্গে কথা জুড়ে দেয় তারই বন্ধু দিনেশ হারি, ‘এদেশের মানুষগেুলোও অসাধারণ ও সৌহার্দ্যপূর্ন। এই সম্মেলনে এসে আমি চমৎকার কিছু বাংলাদেশি বন্ধু পেয়েছি। রনি, নাদিয়া, সুমাইয়া আর আফরিনের সঙ্গে আমার সারাজীবন বন্ধুত্ব থেকে যাবে।’ সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে আমি বাংলাদেশে অবস্থান করলেও আমার সার্বক্ষনিক অবস্থান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস টিভির মাধ্যমে সবগুলো অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করায় এবং শক্তিশালী ওয়াই ফাই নেটওয়ার্ক থাকায় আমার পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষনিক আমার সাথে যুক্ত ছিল। এজন্য সে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানায়।

সত্যিই কী তাই? জিজ্ঞেস করি আশুলিয়ার গোপালবাড়ি নবীন প্রগতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে আসা শিক্ষার্থী রনিকে। সে জানায়, ‘মরিশাস, নেপাল ও শ্রীলংকার কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের দারুণ বন্ধুত্ব হয়েছে। তাদের ই-মেইল অ্যাড্রেস, ফেসবুক ও ইন্সট্রাগ্রামের আইডি নিয়েছি। আশা করি ভবিষ্যতেও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ থাকবে।’

ভারতের অদিত কুমার বলছিল, এই সম্মেলনে এসে তারা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। তার ভাষায়, ‘নেপাল, শ্রীলংকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য- এইসব দেশের শিক্ষার্থীরা কীভাবে পড়ালেখা করে, তাদের শিক্ষক ক্লাসে কীভাবে পড়ান, পড়ালেখার পাশাপাশি তারা আর কী কী কাজ করে ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। পাশাপাশি ভারতের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদেরকে জানাতে পেরেছি।’

একদিন চা- বিরতিতে কথা হয় ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর টোটাল কোয়ালিটিঅ্যান্ড এক্সেলেন্স ইন এডুকেশনএর চেয়ারম্যান ড. জগদীশ গান্ধীর সাথে। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই সমাজে শান্তি আনতে পারে। একক প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা অনেকটা দূরহ ব্যাপার। এজন্য সব ধর্মেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আজকের এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে নানা জাতি ধর্ম ও বর্ণের শিশুরা মিলিত হয়েছে। এই শিশুরা সবাই মিলে ভবিষ্যতে একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তুলবে। এটাই ঐক্যের শক্তি ও সৌন্দর্য। ড. জগদীশ গান্ধী আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে আমাদের শিশুরা নিরাপদ নয়। শিশুরা নিরাপদ না হলে ভবিষ্যৎ নিরাপদ হয় না। সুতরাং শিশুদের নিরাপদ রাখতে হবে এবং সেজন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতীয় এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা লক্ষণৌয়ের সিটি মন্টেসরি স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. বিণীতা কামরান বলেন, আমরা চাই একটি নিরাপদ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী। সেই পৃথিবী গড়ে তুলবে এই শিশুরাই। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, ছোটবেলা থেকে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারলে বড় হয়ে তারা উন্নত নেতৃত্বদানে সক্ষম হবে।’

বিণীতার সঙ্গে একমত পোষণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থী দলের সঙ্গে আসা জেফ ডেওয়ার। আমেরিকার এই স্কুল শিক্ষক বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দেশের বাইরে অন্যান্য দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে জানুক। পরষ্পরের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি হোক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তারা একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারবে।

কথা হয় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও। তেজগাঁও কলেজ, টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, খুলনার জনতা স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা জানায়, কেস স্টাডি, পোস্টার ও শ্লোগান, কোলাজ, স্কিট, বিতর্ক, কোয়ালিটি কুইজ, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ইত্যাদি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছে।

যেমনটা বলছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রহুল আমিন রাতুল- ‘একসঙ্গে এত বিদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হতে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নিঃসন্দেহে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এই চারদিন আমার স্মৃতিতে সারাজীবন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।’

খুলনার জনতা স্কুলের শিক্ষার্থী রাখি মন্ডল বলে, ‘এইসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা ঝালাই করে নিতে পেরেছি। এর মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। ভবিষ্যতে এ রকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আর ভয় পাব না।’

রাখি যখন ইংরেজিতে বলছিল এইসব কথা তখন পাশে দাঁড়িয়ে শুনছিলেন মরিশাসের শিক্ষক ওমর নওয়াজ আব্দুল লতিফ। তিনি হাস্যমুখে বলেন, ‘আমরা তো এটাই চাই। শিক্ষার্থীদের জড়তা কাটুক। ভয় দূর হোক। তারা বিশ্বব্যাপী নিজেদের মেধাকে ছড়িয়ে দিক। তাদের হাত ধরে বিশ্বের টেকসই উন্নয়ন হোক। গড়ে উঠুক হানাহানিমুক্ত একে শান্তিময় পৃথিবী।’

শেষ দিন পড়ন্ত বিকেলে ক্যাম্পাসের গ্রিন গার্ডেনে কথা হয় সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থপক ডব্লিউসিটিকিউইই-এর মহাপরিচালক ডেভিড কলিংউড হুচিন এর সাথে চায়ের কাপে চুমক দিতে দিতে তিনি বললেন, টেকসই উন্নয়ন ও শান্তি-এ দুটি শব্দ এখন সারা বিশ্বব্যাপী আলোচিত। আমরা সবাই টেকসই উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব চাই। আর এ দুটি বিষয় অর্জনের জন্য দরকার মানসম্মত শিক্ষা।

ডেভিড কলিংউড হুচিন মনে করেন, মানসম্মত শিক্ষার জন্য আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। কারণ শিক্ষার সর্বস্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন ও শান্তি আসবে না।

সমাপনী দিনের শেষ সময়টুকু সত্যিই আনন্দমুখর হয়ে উঠে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। একে একে মঞ্চে পেিবশনা নিয়ে আসে নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকা, ভারত ও মরিশাস। সবশেষে আসে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল-২০১৮ আসরের। ইতিমধ্যে ঘোষনা দেয়া হয় ২২ তম আসরের যার সআগতিক দেশ হবে ভারত।

চার দিনের এই মিলনমেলা সাঙ্গ হয় ৬ মে রবিবার। বিদায় বেলায় সবারই চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। তবে তা ক্ষণিকের জন্য। পরক্ষণেই সেলফি তোলা ও নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সবাই। দলের অভিভাবক শিক্ষকরা তাড়া দেন- চলো, চলো, ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে! শিক্ষার্থীরা গাড়িতে উঠতে থাকে আর পরষ্পরকে বলতে থাকে- দেখা হবে বন্ধু, ফেসবুকে-টুইটারে!

লেখক: মোঃ আনোয়ার হাবিব কাজল, ঊর্ধ্বতন সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশণাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।


নিউজটি অন্যকে শেয়ার করুন...

আর্কাইভ

business add here
© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com