শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন

দশ গুণীজনকে সম্মাননা জানালো বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ

দশ গুণীজনকে সম্মাননা জানালো বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য দশ গুণীজনকে সম্মাননা জানালো বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ রাজশাহী শাখা। সংগঠনের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গুণীজন সংবর্ধনা ও ‘ভুবনের ঘাটে ঘাটে’ ভ্রমণ সংকলনের প্রকাশনা উৎসব ২৮ মার্চ বুধবার সকাল ১০টায় নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংঘের সভাপতি বিশিষ্ট নারীনেত্রী, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক রাশেদা খালেক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বর্তমানে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, রাজনীতিবিদ প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি রাবি সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ নুরুল্লাহ, মূখ্য আলোচক নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহম্মদ আবদুল জলিল, আলোচক নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফরিদা সুলতানা ও রাবি আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য জায়তুনা খাতুন, মনোয়ারা বেগ, মমতাজ মহল বুলবুলি, ছোটগল্পে শেরিনা সরকার রোজী, অনু চৌধুরী, গবেষণায় ড. মাজেদা বেগম, শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রফেসর সাইদা বেগম, কাব্যে শিরীন শরীফ, তথ্য প্রযুক্তিতে জামসেদ হোসেন টিপু এবং সাংবাদিকতায় জনাব আলী-কে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করে। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত গুণীজনদের সংক্ষিপ্ত জীবনী একে একে পাঠ করেন সংঘের সদস্যবৃন্দ।

জায়তুনা খাতুন
জায়তুনা খাতুন ১৯৪৯ সালে ১৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম তাওয়াক্কাল আহমেদ, মাতা মরহুমা মেহের আংগেজ। তিনি সমাজকর্ম বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে এম.এ. ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৬ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সরকারী কাজে যোগদান করেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ২০০৬ সালে সহকারী পরিচালক পদে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা ও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। তাঁর সর্বমোট ১৪টি যৌথ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮২ সাল হতে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী হতে বিভিন্ন সময় তাঁর আলোচনা ও কথিকা প্রচার হয়ে থাকে। এছাড়া তিনি লেখিকা সংঘ, সচেতন নাগরিক কমিটি (টিআইবি) ও ডাসকো ফাউন্ডেশন সহ অনেক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নারী, প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সহ দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন বেসরকারী কারা পরিদর্শক হিসাবে সরকার কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১টি স্বর্ণপদক সহ ৩টি সম্মাননা পেয়েছেন।

শেরিনা সরকার রোজী
শেরিনা সরকার রোজী পাবনায় জন্মগ্রহণ করে বেড়ে উঠেছেন যশোর-খুলনায়। যশোর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং এম.এম কলেজ থেকে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাশ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান এ দুটি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শেরিনা সরকার রোজী মোট ৪টি ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর ‘ক’ শ্রেণির নাট্যশিল্পী হিসেবে মাঝে মাঝে নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়াও রাজশাহী বেতারে সাহিত্য আসর, মহিলা জগৎ, শিশুমেলায় স্বরচিত গল্প কবিতা পাঠ করেন। তিনি গার্লস গাইড, নজরুল একাডেমি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইত্যাদি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছেন। শেরিনা সরকার রোজী লেখালেখি করেন। তিনি রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ, নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদের সাথে যুক্ত রয়েছেন। ভারতের আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে ‘জীবনানন্দ দাস’ পুরস্কার সহ বিভিন্ন সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর লেখার মূল মাধ্যম হচ্ছে ছোটগল্প ও রম্য রচনা। কবিতা ও প্রবন্ধ মাঝে মধ্যে লিখে থাকেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও দৈনিক সংবাদপত্রের সাহিত্য পাতায় তিনি প্রায়ই লিখে থাকেন।

অনু চৌধুরী
১৯৬০ সালের ৩০শে জুন নওগাঁ জেলায় জন্ম। পিতা গোলাম কিবরিয়া ও মাতা আমিনা কিবরিয়া। বাবা সরকারী চাকুরী করতেন মাতা গৃহবধু ছিলেন। অনু চৌধুরী বর্তমান রেড ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত আছেন। তিনি সাহিত্য চর্চার সাথে সাথে বিভিন্ন সমাজসেবার কাজ করেন। তিনি লেখিকা সংঘের দীর্ঘদিন কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন। বরেন্দ্র নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র, বনলতা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকার পদে আছেন। রাজশাহী সাহিত্য পরিষদের কোষাধ্যক্ষের পদে আছেন দীর্ঘদিন। বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি, সূর্যের হাসি তিলোত্তমা এনজিও’র ট্রাস্টিবডির কোষাধ্যক্ষ। বাংলাদেশ গার্লস গাইড এসোসিয়েশনের ই.সি কমিটিতে আছেন। কর্মজীবী নারী সংস্থার প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশ বেতারের নাটকের শিল্পী। এছাড়াও বিভিন্ন সমাজসেবার কাজে তিনি জড়িত আছেন। যৌথ প্রকাশনা ৪০টি। পুরস্কারের সংখ্যা ১টি। ব্যক্তিগত জীবনে ১ কন্যা ও ১ পুত্রের জননী।

ড. মাজেদা খাতুন
ড. মাজেদা খাতুন ১৯৪০ সালের ১৫ জানুয়ারি মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ডাক্তার মোকাদ্দেস হোসেন ও মায়ের নাম আয়শা খাতুন। স্বামী- মোল্লা এবাদত হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রফেসর ছিলেন। মাজেদা খাতুন ১৯৫৬ সালে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসাবে মাগুরা থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। তিনি মাগুরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে আই.এ. পাশ করেন এবং একই কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ডিগ্রি পাশ করেন। এরপর ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহ উইমেন্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি.এড. পাশ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ. পাশ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এম.ফিল. ডিগ্রি লাভ করেন। সর্বশেষ ২০০০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেন। মাজেদা খাতুন ১৯৬১ সালে মাগুরা মহালক্ষ্মী বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষয়িত্রী এবং ১৯৮১ সালে মাগুরার শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মাগুরায় শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৯ সালে অবসরে যান। তিনি তিন পুত্র ও এক কন্যার জননী। মাহেনও, ললনা, দৈনিক বার্তা, গ্রামীণ বাংলা, মূল্যবোধ প্রভৃতি বহু পত্র-পত্রিকায় তার অসংখ্য ছোটগল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। ‘নির্দেশ নামে তার লেখা একখানি নাটিকা রাজশাহী বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘দুঃসময়ের ডায়েরী’ ও ‘ডান পিটে ডাকু’।

প্রফেসর সাইদা বেগম
১৯৪৫ সালের ২ জানুয়ারি নওগাঁ জেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা সাজ্জাদ আলী ও মা নূরজাহান বেগম। বাবা ছিলেন পি.টি.এস (পাকিস্তান ট্যাকসেস সার্ভিসের) একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মা গৃহিনী। ১৯৬০ সালে বরিশাল প্রভাতী (বর্তমানে উদয়ন) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রেকুলেসন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে দর্শনশাস্ত্রে বি.এ অনার্স ও ১৯৬৬ সালে এম.এ ও ১৯৬৮ সালে বি.এড ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অধ্যাপনার শুরু। তারপর ২০০১ সালে ৩০ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ হিসাবে খুলনা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে যোগদান করেন এবং ঐ প্রতিষ্ঠান থেকেই ২০০২ সালে অবসরে যান। রাজশাহী বেতারে ১৯৭০ সাল থেকে এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ‘মহিলা জগৎ’ অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ রাজশাহী শাখার একজন আজীবন সদস্য ছাড়াও রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে কাজ করছেন। দেশ-বিদেশে বেড়ান তাঁর শখ। তিন পুত্র ও এক কন্যার জননী তিনি। ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ ২০১০ সালে রাজশাহীর ‘গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা’ পদকপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে তিনি একজন। এছাড়াও তাঁর রয়েছে বিভিন্ন পদক ও সম্মাননা পুরস্কার।

মনোয়ারা বেগ
লেখিকা মনোয়ারা বেগ ১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চুনাখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম ইলিয়াস মিঞা, মাতা মরহুমা জাহানারা বেগম, স্বামী মরহুম আমিনুল হক বেগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। মনোয়ারা বেগ শিক্ষাজীবন থেকেই সাহিত্য অনুরাগী ছিলেন। তাঁর একক বই তিনটি। ছোটগল্প- ‘পথ যদি না শেষ হয়’ (একুশে বইমেলা ২০০৫), কবিতা- ‘সোনালী ডানার চিল’ (আগস্ট ২০০৫), ছড়া- ‘ছড়ার কথাকলি’ (ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। তাঁর যৌথভাবে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৬০টির উপরে। প্রতিভা স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাপ্ত পদক ২টি- সুললনা সাহিত্য পরিষদ এর ‘সুললনা স্বাধীনতা পদক ২০০৫’, বাংলাদেশ কবিতা সংসদ এর ‘বাংলা সাহিত্য পদক ১৪১৩’।

শিরীন শরীফ
শিরীন শরীফের জন্ম ১৯৬২ সালে নাটোরের রক্ষণশীল পরিবারে। বাবা-মা দু’জনে ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ, ডি.এইচ, এম.এস, ঢাকা বোর্ড। ১৯৮০ সাল থেকে অদ্যাবধি রাজশাহী বেতারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন সময় তার রচিত জীবন্তিকা, নাটক, ছোটগল্প, স্বরচিত আবৃতি খুলনা ও ঢাকা বেতারে প্রচারিত হয়েছে। রাজশাহী বেতারে জীবন জীবনের জন্য অনুষ্ঠান সর্বপ্রথম পরিচালক কবি শিরীন শরীফ। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস থেকে আগত প্রোগ্রাম প্রডিউসার মাইকেল পিকস্টক তাঁকে সরাসরি দর্শকের উপস্থিতিতে শ্রেষ্ঠ উপস্থাপক নির্বাচন করেন। কবির প্রকাশিত যৌথ গ্রন্থ ২১টি, একক ২টি, চিত্রন কাব্যগ্রন্থ এবং রেসিপি টক, ঝাল, মিস্টি ২০০৮ এবং ২০১৭। শিরীন শরীফ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, আমার দেশ, দাবানল, করতোয়া, সুর, সানন্দ ইত্যাদি দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক ছায়াপথে নিয়মিত লিখে চলেছেন। সাহিত্যকর্মে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু সাহিত্য সংসদ এবং বিশ্ববঙ্গ সাহিত্য সংসদ আয়োজিত মহাত্মাগান্ধী স্বর্ণপদকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।

মমতাজ মহল বুলবুলি
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার হাসিনপুর গ্রামে ১৯৫৭ সালের ১২ জানুয়ারি মমতাজ মহল বুলবুলির জন্ম। পিতা জুলফিকার মফিজ উদ্দিন খন্দকার, মাতা মরিয়ম খন্দকার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্মে বি.এ অনার্স, এম.এ ও এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭৪ সাল থেকে তাঁর সাহিত্যকর্ম শুরু। প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সমান পদচারণা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দুঃখের নদী বুকের ভেতর’ (২০০৬), দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সেই অবেলায় তুমি’ (২০০৯) এবং তৃতীয় ভ্রমণ কাহিনী ‘ঘুরে এলাম থাইল্যান্ড’ প্রকাশিত হয়। তাঁর যৌথ প্রকাশনা প্রায় ৬০ এর অধিক। বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখে আসছেন। সাহিত্যে স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪১৩ সালে বাংলা সাহিত্য পদক, ২০০৯ সালে একুশে বইমেলা পদক, ২০১০ সালে নজরুল স্মারক সম্মাননা পেয়েছেন।

জামসেদ হোসেন টিপু
১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর কুমিল্লা জেলার সাইচাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম মোসলেম উদ্দিন ও মা মরহুমা রেনুয়ারা বেগম। টিপুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় সাইচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি রাজশাহী থেকে বিএসএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে প্রায় ১০ বছর চাকুরি করেন। ইতোমধ্যে কম্পিউটারের উপর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং গ্রহণ করেছেন। গবেষক ও লেখক মহলে তার সুখ্যাতি ও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তার কাজের পরিধি ব্যাপক যেমন- গ্রাফিক্স ডিজাইন, এনিমেশন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং, হার্ডওয়্যার এন্ড ট্রাবলশুটিং, ডোমেইন এন্ড হোস্টিং, স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়ার, ওয়েবসাইট মেইনটেনেন্স, অপারেটিং সিস্টেম ও লিনাক্স ইত্যাদি। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিভার্সিটি আই ফোরামে’র একজন সদস্য। রাজশাহীতে তার প্রতিষ্ঠিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ স্কুল এর এডভাইজার এবং ইডেন কিডস স্কুল এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য। বর্তমানে তিনি নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আইটি অফিসার পদে কর্মরত আছেন।

জনাব আলী
১৯৮৯ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজশাহী বাগমারা উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল গফুর ও মাতা দিল আফরোজ। রাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ২০১১ সালে ১ম বিভাগে বিএসএস (অনার্স) এবং ২০১২ সালে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে উক্ত বিভাগের তিনি এমফিল গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন দ্বিতীয় বর্ষ থেকে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত হন। ২০০৯ সালে রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক সানশাইন পত্রিকার রাবি প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালীন ২০১০ সালে জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বাংলানিউজ২৪.কম এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালে মার্চ মাসে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে জনসংযোগ দপ্তরের সহকারি পরিচালক পদে কর্মরত আছেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে স্বাধীনতা নিয়ে কবিতা আবৃতি ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন সংঘের সদস্য ড. নূরে এলিস আকতার জাহান ও কল্পনা রায় ভৌমিক।


নিউজটি অন্যকে শেয়ার করুন...

আর্কাইভ

business add here
© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com