রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের জন্মকথা

রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের জন্মকথা

Professor Dr. Abdul Khaleque (প্রফেসর ড. আবদুল খালেক)

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তারিখে বিশ্বের নিষ্ঠুরতম হত্যাকান্ডের শিকার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারবর্গ। ধানমন্ডীর ৩২ নম্বর বাসায় বঙ্গবন্ধুর সাথে যাঁরা অবস্থান করছিলেন, পরিবারের তাদের কাউকেই ঘাতকেরা বাঁচিয়ে রাখে নি। বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে তাঁরা সেদিন মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। ঘাতকদের মূল লক্ষ্য ছিলো আওয়ামী লীগকে নির্মূল করা এবং বাংলাদেশটিকে দ্বিতীয় পাকিস্তানে রূপান্তরিত করা। সেই লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর তারিখে জেলখানায় ঢুকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতা জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ, জনাব ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং জনাব এএইচএম কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করবার জন্য ছিলো এ এক গভীর ষড়যন্ত্র। হত্যাকান্ড ছাড়াও আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে জেলখানায় আবদ্ধ করা হয়। শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বুদ্ধিজীবীগণও নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. আবদুল মতিন চৌধুরী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. মযহারুল ইসলামকে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়। বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশকে এক চরম সংকটের মধ্যে ফেলে দেয়। দেশে সামরিক অভ্যুত্থান এবং পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটতে থাকে। সামরিক বাহিনীতে যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাঁরা একে একে দন্ডপ্রাপ্ত হতে থাকেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর প্রতিনিয়ত আঘাত আসে। জেনারেল জিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে অনুধাবন করা যায় তিনি পাকিস্তানের হয়ে কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার যাতে কেউ করতে না পারে, সে জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করা হয়। বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সংগঠন আওয়ামী লীগকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলবার যতরকম কলাকৌশল আছে, জেনারেল জিয়া এবং খোন্দকার মোশতাক তা অবলম্বন করেছিলেন। এর ফলে সে সময় প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিলো।

১৯৭৮ সালে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম। জেল থেকে মুক্ত হয়ে এসে প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নিজ বিভাগে নিজ পদে যোগদান করতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু প্রফেসর মযহারুল ইসলামকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর আবদুল বারী বাংলা বিভাগে তাঁর নিজ পদে যোগদান করতে দেন নি। এর ফলে মযহারুল ইসলামকে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে চলে যেতে হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন।

প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বিভাগে নিজ পদে যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই ‘বোস প্রফেসর’ হিসেবে সম্মানিত হন। প্রফেসর আবদুল মতিন চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সম্ভবত ১৯৭৯-৮০ সালের দিকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’। দেশের প্রখ্যাত প্রগতিশীল শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’। তাঁরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা দেশের মানুষের কাছে বলতে শুরু করেন। একই সাঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দান এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার ও দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। ১৯৮১ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানে জেনারেল জিয়া নিহত হন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন জেনারেল এরশাদ। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ দিন দিন কঠোর অবস্থানে চলে যেতে থাকে। ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের শাখা খুলবার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রথমেই নজর দেয়া হয় রাজশাহীর দিকে। ১৯৮৭ সালের কথা। ঢাকা থেকে আমার সাথে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক সিদ্দিক। প্রথমে যোগাযোগ হয় টেলিফোনে। রাজশাহীতে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ গঠনের লক্ষ্যে আমাকে একটি মতবিনিময় সভা ডাকবার অনুরোধ জানান। প্রস্তাবটি আমাকে ভাবিয়ে তোলে, কারণ রাজশাহীতে তখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা প্রায় নেই বললেই চলে। মনে রাখতে হবে ১৯৭৩ সালের সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনে আওয়ামী প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন। জনাব এএইচএম কামারুজ্জামান সাহেব বেঁচে থাকতেই রাজশাহী সদর আসনে এমনটি ঘটে গেছে। কামারুজ্জামান সাহেবের অবর্তমানে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি কমে যাবে, সেটাই স্বাভাবিক। মূল ভরসার স্থল তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সম্প্রদায় এবং রাজশাহী শহরের পেশাজীবী বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করেন। অধ্যাপক ড. শফিক সিদ্দিক উত্থাপিত প্রস্তাব কার্যকর করতে আমাকে বেশ খানিকটা সময় নিতে হয়।

রাজশাহী শহরের প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যখন আমি কথা বলতে শুরু করি, তখন আলুপট্টির মির্জা পরিবহনের মালিক মির্জা জাকারিয়া সাহেব রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের ব্যাপারে আমাকে গভীর আন্তরিকতার সাথে উৎসাহিত করতে থাকেন। আমি যখন বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময়ের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা খুঁজছিলাম, জনাব মীর্জা জাকারিয়া আমাকে আলুপট্টিস্থ তাঁর মীর্জা পরিবহন অফিসে মতবিনিময় সভা করার অনুরোধ জানান। ঢাকায় ড. শফিক সিদ্দিক এর সাথে কথা বলে ১৯৮৭ সালের ১০ই জুলাই তারিখে মির্জা পরিবহন অফিসে মতবিনিময় সভার আয়োজন করি। উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ জাতীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ড. শফিক সিদ্দিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জনাব সুলতান শরিফ। ১০ই জুলাই তারিখের মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী শহরের শতাধিক খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ রাজনৈতিক নেতা এবং পেশাজীবীর সমাবেশ ঘটে। সভায় রাজশাহী শহরে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের পক্ষে নানা রকম আলোচনা শেষে রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাৎক্ষণিকভাবে ৬৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহ্বায়ক করা হয় আমাকে। কাজেই দ্বিধাহীনচিত্তে বলা যায় ‘রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ এর জন্ম দিন ১০ই জুলাই ১৯৮৭ সাল।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হবার পর আমরা সর্বপ্রথম রাজশাহীতে ব্যাপকভাবে ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। হাতে সময় ছিলো মাত্র এক মাস। শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে থাকে দেশবাসীর প্রতি ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের আহ্বান সম্বলিত প্রচারপত্র, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতা, প্রভাতফেরি, শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং আলোচনা সভা। প্রচারপত্রটি বর্তমানকালের গবেষকদের কাছে ঐতিহাসিক দলিল বলে বিবেচিত হবে। পুরো প্রচারপত্রটি এখানে তুলে ধরা হলো-

“১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও
বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমিক জনসাধারণকে
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহীজেলা কমিটির উদাত্ত আহ্বান

বন্ধুগণ,
আসন্ন ১৫ই আগস্ট, ১৯৮৭ বঙ্গবন্ধুর দ্বাদশ মৃত্যু বার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস। আজ থেকে বার বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনে মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদ এবং তার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী দোষরদের হাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির জনক, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের মহান স্থপতি, স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। কঠোর সাধনা আর সফল নেতৃত্বের দ্বারা তিনি বাংলাদেশের মানুষকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত করেন। তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল শোষিতের গণতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। তাছাড়া বিশ্বের যেখানেই সা¤্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদ বিরোধী মুক্তি সংগ্রাম চলছে, সেখানেই ছিল তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন।

সাম্রাজ্যবাদ প্ররোচিত দেশী-বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ধ্বংশাত্মক কার্যকলাপকে প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং বাংলাদেশে দুঃখী মানুষের কল্যাণে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন, ঠিক তখনই ঘটে ১৫ই আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ড। এরপর বিগত বার বছরের দুঃসহ অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল লক্ষ্যই ছিল তাঁর অনুস্বত প্রগতির ধারাকে স্তব্ধ করে দিয়ে শোষক ও প্রতিক্রীয়াশীল শক্তিকে আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে মুছে ফেলা। মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক মূল্যবোধ ও সাফল্যকে অত্যন্ত সুকৌশলে অবলুপ্ত করে বৈদেশিক স্বার্থকেন্দ্রীক অবাধ শোষণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা।

জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে আমাদের মাথা নত হয়ে গেছে এ কারণে যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের মহাননায়ক ও জাতির জনকের হত্যাকান্ডের কোন তদন্ত বা বিচার আজ পর্যন্ত হয় নি। বরং জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সাংবিধানিকভাবে জাতির জনকের হত্যা ও হত্যাকারীদের বিচারে বাধা দান করা হয়েছে। অপর পক্ষে জাতির জনকের চিহ্নিত দেশীয় হত্যাকারীদেরকে সরকারী পৃষ্টপোষকতায় দেশে-বিদেশে মোটা বেতন, আনুষংগিক সুযোগ সুবিধা ও ব্যবসায়িক বিশেষ সুযোগ দান এবং তাদেরকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ১৫ই আগস্ট জাতির জনকের হত্যার পর হত্যাকারী ও সেই সঙ্গে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ক্ষমতা দখলের চক্রান্তকে প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করার কারণে অনেককে জীবন দান দেশত্যাগ, কারাবরণ, চাকুরীচ্যুত, নির্যাতন এমনকি ফাঁসির আসামী পর্যন্ত হতে হয়েছে। একই কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীকে স্বদেশে ফিরে আসতে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর সরকারের সুসংরক্ষিক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর চারজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জনাব তাজউদ্দীন আহমদ, জনাব মুহম্মদ মনসুর আলী ও জনাব আবু হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে হত্যার যখন কোন বিচার হয় না, তখন লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়ে আসে।

এমতাবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখা মনে করে যে, স্বাধীনতা বিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সমূহের যাবতীয় অপচেষ্টা প্রতিরোধ এবং বাংলার মাটি থেকে প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষো সামরিক শাসনের চির অবসানের জন্য কাল বিলম্ব না করে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সমাজতন্ত্রের পক্ষের সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলন গড়ে তোলাই এখন আশু কর্তব্য। বঙ্গবন্ধু পরিষদ আরো মনে করে যে, ১৫ই আগস্ট শুধু শোক প্রকাশের দিন নয়- এই দিন মহান নেতার প্রদর্শিত পথে শক্তি সঞ্চয়ের দিন, শপথ গ্রহণের দিন। তাই এই পটভূমিতে আসন্ন ১৫ই আগস্ট ‘৮৭ বঙ্গবন্ধুর দ্বাদশ মৃত্যু বার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনের জন্য আমরা দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি:

নিবেদক- বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ

ডঃ আবদুল খালেক (আহ্বায়ক) অধ্যপক আলী আনোয়ার অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস অধ্যাপক আবদুর রহমান ডঃ কায়েস উদ্দীন
ডঃ আবুল ফজল হক অধ্যাপক আতাউর রহমান (কবি) ডঃ মিজানুর রহমান
অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ ডঃ শাহ আলম ডঃ মোয়াজ্জেম হোসেন খান
মহসিন প্রামানিক (এডভোকেট) মোঃ মোজাফফর হোসেন (এডঃ) মোঃ গোলাম আরিফ টিপু (এডঃ)
মুহাম্মদ মহসিন (এডভোকেট) মিজান রশিদ (সাংবাদিক) বজলুর রহমান (প্রভাষক)
মোঃ নিজামউদ্দীন (মাষ্টার) মোঃ মতিয়ার রহমান (এডঃ) অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ
মোঃ আকবর আলী (এডভোকেট) অধ্যাপক ফরহাদ আলী খন্দকার অধ্যাঃ খৈয়াম কোরায়েশী
ডাঃ আবদুস সামাদ সিদ্দিকী মোঃ আফসার আলী (এডঃ) অধ্যাপক আবদুল বারী
ডঃ এ, কিউ, এম. ফজলুল হক মোঃ মনিরুজ্জামান মনিরুল ইসলাম (এডভোকেট)
অধ্যাপক শীষ মোহাম্মদ আবদুছ সামাদ (এডভোকেট) ডাঃ আবদুল লতিফ
মোঃ আবদুস সোবহান মোঃ মজিবুর রহমান মোঃ আবদুল গফুর
রোহিনী মোহন সাহা আতিক আহমেদ বিপুল মোঃ শফিকুল ইসলাম
মোঃ আবদুস সামাদ খা মির্জা লতিফুল মির্জ্জা জাহাঙ্গীর
মির্জা হোসেন মামুনার রশিদ পবিত্র সরকার মিন্টু
আলতাফ হোসেন মোঃ মোজাম্মেল হক আবদুল কুদ্দুস (অধ্যাপক)
মোঃ আবদুর রাজ্জাক মোরশেদ বাকী শ্রী সুনীল কুমার রায়
বি, এম, খান মোহাম্মদ মোঃ হোসেন মোল্লা রফিক উদ্দিন আহম্মেদ
মোঃ আবদুর রহমান (সাংবাদিক) মির্জা জাকারিয়া আশুতোষ দেব
সুরঞ্জন কুমার ঘোষ আসাদুজ্জামান মোঃ আবদুল বারী
শেখ খোরশেদ আলী স, ম, আবদুর রউফ মোঃ মাসুদুর রেজা
সফিকুর রহমান মোঃ হাবিবুর রহমান মাহবুবুজ্জামান ভূলু
এ, এইচ,এম, খায়রুজ্জামান লিটন (এডঃ) মোঃ মুঞ্জুর জামান মুকুল (এডঃ) মোঃ আবদুর রাজ্জাক
মোঃ মজিবুর রহমান মোঃ জমসেদ আলী মোঃ আনোয়ার সামাদ
মোঃ রহমত উল্লাহ মোঃ ইদ্রিস আলী মোঃ আবদুর রহমান
মোঃ কাজেম উদ্দীন মোঃ খাজা আহমদ মোঃ গোলাম হোসেন
রফিউদ্দীন আহমদ শ্রী অনিল কুমার সরকার কে, এস, এম ইয়াসিন আলী
কাদের সরকার শ্রী সুভাষ কৃষ্ণ সরকার (শিক্ষক) কামাল উদ্দিন আহমেদ
মোঃ লুৎফর রহমান মোল্লা মোঃ শরিফুল ইসলাম (আবু) মোঃ আবদুল ওয়াদুদ (লালু)
মোঃ শাহরিয়া আলম মোঃ আবদুল আউয়াল (টিয়া) মোঃ আবদুর রশিদ (ভাদু)
মোঃ সোহরাব আলী শাহ লুৎফর রহমান চৌধুরী
মোঃ আবদুর রৌফ (নান্নু)
কর্মসূচীঃ
১৫ই আগস্ট, শনিবার
সকাল ৬টাঃ প্রভাতফেরী, বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন।
বিকেল ৫টাঃ আলোচনা সভা- প্রবন্ধঃ ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের পথ’
প্রবন্ধকারঃ ডঃ মিজানুর রহমান। স্থানঃ লোকনাথ হাই স্কুল মিলনায়তন
বিকেল ৫টা থেকে ৫-৩০ মিনিটঃ রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত।”

বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি পরপর কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেমন-

ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস পালন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ৩রা নভেম্বর (১৯৮৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। উক্ত আলোচনা সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক এবং ছাত্রবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবস পালন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ যে সমস্ত কর্মসূচী পালন করে, তার মধ্যে প্রভাত ফেরী, শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, আলোচনা সভা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সমস্ত শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে জনাব আলী আনোয়ার, জনাব হাসান আজিজুল হক, চৌধুরী জুলফিকার মতিন প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

এরপর শুরু হয় ১৯৮৮ সালের কার্যক্রম। আসে ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দেশে প্রত্যাবর্তন দিবস। বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটি এই দিবসটি পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূিচ গ্রহণ করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষ্যে প্রভাত ফেরী, শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব নুরুল্লাহ্। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জনাব হাসান আজিজুল হক, জনাব শহিদুল ইসলাম, ড. আবদুল জলিল এবং আরও অনেকে। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। উক্ত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এবং শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ বক্তব্য রাখেন।

১৯৮৮ সালের ১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস পালন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে এক বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, স্থান- রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তন উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুশাররফ হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শফিক সিদ্দিক। মুজিবনগর দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মিজানুর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন উপস্থিত সুধীবৃন্দ।

১৭ই এপ্রিল বার্ষিক সম্মেলনের শেষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ রাজশাহী জেলার জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিম্নরূপ :
সভাপতি: ড. আবদুল খালেক
সহ-সভাপতি: ১. অধ্যাপক আলী আনোয়ার
” ২. অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনুস
” ৩. ড. মিজানুর রহমান
” ৪. অধ্যাপক মুহম্মদ নুরুল্লাহ্
” ৫. অধ্যাপক ফরহাদ আলী খোন্দকার
” ৬. জনাব মির্জা জাকারিয়া
” ৭. জনাব মজিবুর রহমান
সাধারণ সম্পাদক: ড. আবুল ফজল হক
কোষাধ্যক্ষ: জনাব নিজাম উদ্দীন (মাস্টার)
যুগ্ম সম্পাদক: ১. এডভোকেট মতিউর রহমান
” ২. জনাব আবদুর রাজ্জাক

১৯৮৭ সালের ১০ই জুলাই তারিখে নানা রকম দ্বিধা সঙ্কোচ নিয়ে রাজশাহীতে ৬৬ সদস্য বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু পরিষদের যে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল, ১৯৮৮ সালের ১৭ই এপ্রিল তারিখে পরিষদের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের যে দুর্বার অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল, নানারকম প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে রাজশাহী জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ তার অগ্রযাত্রাকে আজও অব্যাহত রেখেছে।


Share this post in your social media

© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com