বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮, ১০:৩১ অপরাহ্ন

অধ্যাপক ড. এম. আলিমউল্যা মিয়ান এর মৃত্যু বার্ষিকী

অধ্যাপক ড. এম. আলিমউল্যা মিয়ান এর মৃত্যু বার্ষিকী

আইইউবিএটি প্রতিনিধি: ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও বাংলাদেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রদূত অধ্যাপক ড. এম. আলিমউল্যা মিয়ান এর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকি আজ বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে। বিকাল ৪ টায় আইইউবিএটি ক্যাম্পাসে কুর-আন খতম ও দোয়া মাহফিল এবং স্বরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে অধ্যাপক ড. মিয়ান গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোদন, ৭জন শিক্ষার্থীকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং একটি স্বরণিকা প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব স্ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান জুবায়ের আলিম, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভলপমেন্ট রিসার্চ এর মহাপরিচালক মোনায়েম সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব, উপ-উপচার্য ড. মো. জাহিদ হোসেন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এম এ জব্বার। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ডীন, চেয়ার, ডাইরেক্টর, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলামনাই, শিক্ষার্থীবৃন্দ, দেশ ও বিদেশ থেকে আগত ড. মিয়ানের শুভাকাঙ্খী ও আত্বীয় স্বজন। উল্লেখ্য, ড. মিয়ান ২০১৭ সালের ১০ ই মে ইন্তেকাল করেন।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এগ্রিকালচার এণ্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি ইউনিভার্সিটি)-র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্মগ্রহন করেন। পারিবারিকভাবে অধ্যাপক মিয়ান একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং মরহুম বীর প্রতিক কর্ণেল সফিক উল্যার ছোটভাই। অধ্যাপক মিয়ান তার ভাইয়ের অনুপ্রেরণাকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ১৯৯১ সালের জানুয়ারী মাসে প্রতিষ্ঠা করেন এই প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়টি।

অধ্যাপক মিয়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে অনার্স ও ১৯৬৩ সালে মাস্টার্স সমাপ্ত করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ১৯৬৮ সালে এমবিএ এবং যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার স্কুল অব বিজনেস থেকে ১৯৭৬ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। জ্ঞানগর্ভ ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক পেশার অধিকারী ড. মিয়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডাইরেক্টর ও অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর পপুলেশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড রিসার্চ (সিপিএমআর) এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

অধ্যাপক ড. মিয়ান সর্বপ্রথম বাংলাদেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ হাতে নেয় এবং আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করেন ১৯৮০’র দশকে ও ১৯৮৯ সালে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উপর কার্যপত্রে প্রণয়ন করেন এবং ইউএসএ’র ক্যানসাস স্টেইট ইউনিভার্সিটি (কেএসইউ), থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এটিআই) ও এজাম্পশান ইউনিভার্সিটি (এবিএসি) এর সহযোগিতায় ১৯৯১ সালে আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এবিএসি এর সাথে চুক্তির ভিত্তিতে ১৯৯২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু করা হয়। অধ্যাপক মিয়ান দেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টিতে বহুবিদ কাজ করেছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি আইইউবিএটি ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়র প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বাংলাদেশে ব্যবসা উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবার পরিকল্পনা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, জালানী নীতি ইত্যাদি সংক্রান্ত ব্যাপক বিষয়ে ৫১টি রচনাসহ শিক্ষামূলক ১৫টি বই এর প্রণেতা ও সহযোগী প্রণেতা, বহুমূখী গবেষণা ও প্রজেক্ট কনসালটেন্সি ছাড়াও তিনি বিশ্বের বিভিন্ন সম্মেলন সেমিনার ও ওয়ার্কশপে যোগদান করেন। ড. মিয়ান সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর লেবার এন্ড সোস্যাল সিকিউরিটি ল’ এর নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি এসোসিয়েশন অব ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউশনস ইন সাউথ এশিয়া (এমডিসা) এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য। তিনি সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, ইতালি, ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রেসিডেন্ট, ইউ.এস.এ. ছাড়াও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এসোসিয়েশনের সদস্য। তিনি একজন রোটারিয়ান এবং রোটারি ক্লাব অব গ্রেটার ঢাকার একজন সদস্য ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।

অধ্যাপক মিয়ান ১৯৬৩ সালে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক, অধ্যাপক ও আইবিএ’র পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োজিত ছিলেন। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি শিক্ষাদানে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনে পড়াশুনা ও নাইজেরিয়াতে ১৯৮১ সালে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে আহমাদু বালু বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এক সেমিস্টার কাজ করেন। শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে এবং প্রিয় মাতৃভুমির উৎকর্ষ সাধনের প্রচেষ্টায় তিনি বিশ্বের প্রায় ৪০টির মত দেশ ভ্রমণ করেন।


নিউজটি অন্যকে শেয়ার করুন...

আর্কাইভ

business add here
© VarsityNews24.Com
Developed by TipuIT.Com